জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম (অনলাইন আবেদন)

সর্বশেষ আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২৬

জন্ম নিবন্ধনে নামের বানান ভুল, জন্ম তারিখ ভুল, বাবা-মায়ের তথ্য ভুল বা ঠিকানা পুরনো থাকলে সরকারি BDRIS সিস্টেম থেকে অনলাইনেই সংশোধনের আবেদন করা যায়। এই গাইডে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেওয়া হলো। এখনো নিবন্ধনই না করে থাকলে দেখুন আমাদের নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদনের গাইড, আর আগের সনদ যাচাই করতে চাইলে হোমপেজের যাচাই ফর্ম ব্যবহার করুন।

কখন সংশোধনের প্রয়োজন হয়

  • নামের বানান ভুল (বাংলা, ইংরেজি বা দুটোতেই)
  • জন্ম তারিখ ভুল লেখা হয়েছে
  • বাবা-মায়ের নাম বা তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ
  • লিঙ্গ (ছেলে/মেয়ে) ভুল বসানো হয়েছে
  • ঠিকানা বদলেছে বা প্রথমেই ভুল দেওয়া হয়েছিল
  • ইংরেজি বানান পাসপোর্ট বা NID-এর সাথে মিলছে না

অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করার নিয়ম

  1. মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে bdris.gov.bd/br/correction লিংকে যান।
  2. ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে রেকর্ডটি সার্চ করুন। সনদে এখনো পুরনো ১৬ ডিজিটের নম্বর থাকলে আগে সেটি ডিজিটাইজ করাতে হবে, দেখুন হোমপেজের ১৬ থেকে ১৭ ডিজিট অংশ।
  3. রেকর্ডটি খুলে কোন তথ্যটি সংশোধন করতে চান তা নির্বাচন করুন।
  4. সঠিক তথ্যটি সাবধানে লিখুন, আর সাথে সাথে জন্মস্থান, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার ঘরগুলোও একবার মিলিয়ে নিন।
  5. সেই সংশোধনের সপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজের স্পষ্ট ছবি বা স্ক্যান আপলোড করুন (নিচে দেওয়া আছে)।
  6. আবেদনকারীর তথ্য দিয়ে মোবাইলে আসা OTP দিয়ে যাচাই করুন।
  7. আবেদন সাবমিট করে কপিটি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে নিন। বেশিরভাগ কার্যালয়ে ফি-সহ এই প্রিন্ট করা কপি স্বাক্ষর করে জমা দিতে হয়।

কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে

কোন তথ্য সংশোধন করছেন তার ওপর নির্ভর করে কাগজ ভিন্ন হয়:

  • নাম বা বাবা-মায়ের তথ্য: আবেদনকারী ও বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • জন্ম তারিখ: শিক্ষাগত সনদ, মেডিকেল/হাসপাতালের রেকর্ড বা টিকা কার্ড (EPI) প্রমাণ হিসেবে
  • বাবা-মায়ের তথ্য সম্পর্কিত: প্রয়োজনে বাবা-মায়ের বিবাহ নিবন্ধনের কাগজ
  • বড় ধরনের নাম পরিবর্তন: সাধারণত নোটারি করা এফিডেভিট লাগে
  • ঠিকানা: হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ, অথবা স্থানীয় চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদ

অনলাইন ফর্মেই প্রতিটি ধাপে কী আপলোড করতে হবে তা দেখিয়ে দেয়; নিশ্চিত না হলে আবেদনের আগে স্থানীয় কার্যালয়ে জিজ্ঞেস করে নিন।

সংশোধনের ফি কত

ফি bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে দিতে হয় না, অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে গিয়ে দিতে হয়। সাধারণত এটি সামান্য একটি অংক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে, তবে কোন তথ্য সংশোধন করছেন ও কোন কার্যালয় তার ওপর নির্ভর করে কমবেশি হতে পারে। সরকারি ফি সময়ে সময়ে বদলায়, তাই আবেদনের আগে সঠিক অংকটি নিজের কার্যালয় থেকে একবার নিশ্চিত করে নিন।

সংশোধন হতে কত সময় লাগে

বানান ঠিক করার মতো ছোট সংশোধন সাধারণত কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদন হয়ে যায়। জন্ম তারিখ বা বড় ধরনের নাম পরিবর্তনের মতো বড় সংশোধনে বেশি সময় লাগতে পারে, কারণ এসব ক্ষেত্রে কার্যালয় অতিরিক্ত প্রমাণ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন চাইতে পারে।

সংশোধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা যেভাবে জানবেন

  1. bdris.gov.bd/br/application/status লিংকে যান।
  2. আবেদনের ধরন (সংশোধন) নির্বাচন করুন।
  3. জমা দেওয়ার সময় পাওয়া জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও আবেদন আইডি (Application ID) লিখুন।
  4. "View" বাটনে ক্লিক করলে বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে।

সংশোধন অনুমোদন হওয়ার পর

অনুমোদন হয়ে গেলে স্থানীয় কার্যালয় থেকে হালনাগাদ সনদটি সংগ্রহ করুন। এরপর সবকিছু ঠিকমতো বসেছে কিনা দেখতে সরকারি পোর্টালে অনলাইনে সংশোধিত তথ্য যাচাই করে নিতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কি সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায়?
আবেদন জমা ও কাগজ আপলোড অনলাইনেই করা যায়, তবে বেশিরভাগ কার্যালয়ে প্রিন্ট করা কপি স্বাক্ষরসহ ও ফি দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে জমা দিতে হয়।
একটি জন্ম নিবন্ধন কতবার সংশোধন করা যায়?
নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই, তবে বারবার সংশোধন বা জন্মসালের মতো বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাড়তি কাগজ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগতে পারে। ছোটখাটো সংশোধন সাধারণত সহজেই হয়ে যায়।
নাবালকের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন কে করবে?
১৮ বছরের কম বয়সী কারো ক্ষেত্রে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক সন্তানের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও নিজেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করবেন।
সংশোধনের আবেদন বাতিল হয়ে গেলে কী করব?
কার্যালয় থেকে বাতিলের কারণ জানানোর কথা। যে তথ্য বা কাগজ কম ছিল তা ঠিক করে আবার আবেদন করুন, অথবা সরাসরি কার্যালয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন কী লাগবে।
সংশোধনের আবেদনে কি ১৭ ডিজিটের নম্বর লাগবে?
হ্যাঁ। সনদে এখনো পুরনো ১৬ বা ১৩ ডিজিটের নম্বর থাকলে আগে সেটি ডিজিটাইজ করে ১৭ ডিজিটে আনতে হবে, দেখুন হোমপেজের ১৬ থেকে ১৭ ডিজিট অংশ।